শিরোনাম:
শিরোনাম:
ঘোষণা:
আমাদের ওয়েবসাইটে স্বাগতম...

বিশ্বের সবচেয়ে ‘গরীব’ প্রেসিডেন্ট তিনি

মো তানভীর রহমান / ৫৬ বার পঠিত
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ অভিযোগ, ‘ক্ষমতায় পা রাখতে না রাখতেই বিলাসে গা ভাসিয়ে দেন তারা। ’ তবে সবাইকে যে এক পাল্লায় মাপা যায়না তারই প্রমাণ হচ্ছেন উরুগুয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হোসে মুহিকা।বিশ্বের ক্ষমতাসীন শাসকদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।উরুগুয়ের প্রেসিডেন্টের জন্য বরাদ্দকৃত বিলাসবহুল বাসভবন ছেড়ে তিনি বাস করেন রাজধানীর মন্টিভিডিওর বাইরের একটি জীর্ণ খামারবাড়িতে। আবার খামার বাড়িটিও তার নিজের নয়। স্ত্রীর মালিকানা সূত্রেই সেখানে বসবাস এই বামপন্থি সাবেক গেরিলা যোদ্ধা প্রেসিডেন্টের।শুধু তাই নয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রাপ্ত বেতনের ৯০ ভাগই তিনি দান করেন দেশের সামাজিক সেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে।বিশ্বের মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত লাতিন রাষ্ট্র উরুগুয়ের রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে বেতনও অবশ্য কম পান না হোসে মুহিকা। তবে বেশিরভাগ অর্থ দান করে দেওয়ার পর তার মাসিক ১২ হাজার ডলার বেতনের মধ্যে অবশিষ্ট থাকে কমবেশি ৭৭৫ ডলার। আর এই অর্থ দিয়েই তিনি নিজের এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। এজন্যই তাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ‘গরীব’ প্রেসিডেন্ট।সব মিলিয়ে ২০১০ সালে নিজের আয়কর বিবৃতিতে তিনি বার্ষিক আয় দেখান মাত্র ১৮’শ ডলার।চলতি বছর অবশ্য স্ত্রীর থেকে পাওয়া সম্পদ যুক্ত হয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার মার্কিন ডলারে। তবে এখনও তার মোট সম্পদের পরিমাণ নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট দানিলো অ্যাসটোরির সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ এবং পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট তাবারে ভাস্কুইজের সম্পদের মাত্র এক তৃতীয়াংশ।তার এ দারিদ্র সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,‌‌‌‌‌‌‘আমাকে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট বলা হয়। কিন্তু আমি নিজেকে দরিদ্র মনে করি না। যারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করে, যাদের চাহিদার কোনো শেষ নেই, আসলে তারাই দরিদ্র।হোসে মুহিকা ২০০৯ সালে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ষাট ও সত্তরের দশকে কিউবার বিপ্লবে অনুপ্রাণিত বামপন্থী গেরিলা দলের নেতা হিসেবে উরুগুয়ের বনে জঙ্গলে ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। এর মাঝে গুলিবিদ্ধ হন ছয়বার।তবে শেষ পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে উরুগুয়ের স্বৈরশাসনামলে ৭৩ থেকে ৮৫ পর্যন্ত একটানা ১৪ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। এর পর গণতন্ত্র ফিরে আসলে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসেন মুহিকা।রাজনীতির বহু চড়াই উতরাই পেড়িয়ে অবশেষে কাঙ্খিত পদলাভ করলেও নিজের অতীত জীবনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি তিনি।
বিলাসবহুল প্রাসাদে থাকার বদলে প্রেসিডেন্ট হয়েও তিনি বেছে নিয়েছেন নিতান্তই এক সাধারণ জীবন। এখনও কর্দমাক্ত পথ পেরিয়েই নিজের খামার বাড়িতে পৌঁছাতে হয় তাকে। পাহারাদার মাত্র তিন জন। দুই জন পুলিশসদস্য ‍সঙ্গে একটি তিন পা’ওয়ালা খোড়া কুকুর।
এখনও খামারে নিয়মিত স্ত্রীর সঙ্গে মিলে কৃষিকাজ করেন তিনি।
পরিশেষে বলা যায় পৃথিবীর সব রাষ্ট্রপ্রধান ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রেসিডেন্ট হোসে মুহিকার পথ অনুসরণ করতেন তাহলে পৃথিবীটা হয়তো সাধারণ মানুষের জন্য আরও সুন্দর হতো।

 Save as PDF


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর