ঘোষণা:
আমাদের ওয়েবসাইটে স্বাগতম...

রাজশাহীতে ১৮ বছর পর জানা গেল মেয়ের খুনি বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৯ বার পঠিত
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩, ২:০৩ অপরাহ্ন

চেয়েছিলেন প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে তাই নিজের সন্তানকে হত্যা করেছিলন বাবা।আর তার দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই প্রতিবেশীদের ওপর। এরই মধ্যে ওই হত্যাকাণ্ডের ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। আর যে বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন তিনিও মারা গেছেন। তবে তার দুই স্ত্রী জীবিত আছেন। আর তারাই এ ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের কাছে। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে।আদালতের নির্দেশে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এত বছর পর রাজশাহীর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে। শেষ পর্যন্ত জানা গেল মামলার বাদীই নিজ সন্তানের হত্যাকারী। প্রতিবেশীদের শায়েস্তা করতে দুই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই পুরো ঘটনাটি সাজিয়ে ছিলেন।মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে পিবিআইর রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ গণমাধ্যম কর্মীদের চাঞ্চল্যকর এ তথ্য দেন।তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ১০ জুন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লক্ষ্মীনগর গ্রামে ১৩ বছরের রেবেকা খাতুনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা আকসেদ আলী সিকদার ২০ জনের নাম উল্লেখ করে রাজশাহীর বাঘা থানায় মেয়ের হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে জমিজমা নিয়ে আকসেদ আলী সিকদারের সঙ্গে প্রতিবেশি মোল্লা বংশের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। তাদের সঙ্গে কোনোভাবে পেরে উঠতে না পেরে নিজের সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে সেই হত্যার দায় মোল্লা বংশের ওপর চাপিয়ে দেন। আর এই লম্বা সময় ধরে আদালতে মামলার বিচারও চলছিল। যদিও দেড় যুগ পর পুলিশি তদন্তে সেই সত্য বেরিয়ে আসলো।সংবাদ সম্মেলন আবুল কালাম আযাদ বলেন, এই মামলার বিচার চলাকালে আদালতের মনে হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষে হত্যকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাই এটি পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্ত করা প্রয়োজন।এজন্য পিবিআইকে রেবেকা হত্যা মামলাটি পুনঃতদন্ত করতে দিয়েছিলেন আদালত। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে অন্য কেউ নয় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে খুন করেছিলেন তার বাবা আকসেদ আলী সিকদার নিজেই।তবে আকসেদ আলী ২০১৯ সালে মারা গেছেন। তার দুই স্ত্রী ভায়েলা বেওয়া (৬৫) ও আফিয়া বেওয়া (৬০) গত রোববার (৯ এপ্রিল) আদালতে হাজির হয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় আদালতকে জানিয়েছেন, এতদিন স্বামীর ভয়ে তারা মুখ খুলতে সাহস পাননি।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ জানান, আকসেদ আলীর দুই স্ত্রীর মধ্যে আফিয়ার মেয়ে ছিল রেবেকা। ২০০৪ সালের জুন মাসে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ১৩ বছরের ওই কিশোরীকে। এরপর আকসেদ আলী থানায় হত্যা মামলা করেন।আর মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে দুই স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে বসেছিলেন আকসেদ। বাড়ির দিকে হঠাৎ ৫০-৬০ জনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসতে দেখে দুই স্ত্রী তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। আকসেদ আলী পালিয়ে গেলে প্রতিপক্ষরা তার ১৩ বছরের কিশোরীকে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। এই মামলায় একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মোল্লা বংশের ২০ জনকে আসামি করা হয়।রেবেকা হত্যা মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ২০০৪ সালের ৩০ নভেম্বর ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর রাজশাহীর জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন আদালতে মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ সময় বিচার চলার পর আদালতের সন্দেহ হলে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য ২০২২ সালের মে মাসে পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।পরে রাজশাহী পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করেন। প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্তের এক পর্যায়ে পিবিআইর এ কর্মকর্তা জানতে পারেন, প্রতিপক্ষরা নয়, আকসেদ আলীই নিজের মেয়েকে হত্যা করেছিলেন। তার দুই স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সবকিছুই স্বীকার করেন তারা। তবে আদালতে এ মামলার পুরোনো ডকেট পাওয়া যায়নি। পিবিআই নিজেদের মতো করেই তদন্ত করেছে।আবুল কালাম আযাদ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আকসেদ আলী সিকদার ছাড়া অন্য কেউ জড়িত ছিলেন সে রকম কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আকসেদ আলী ২০০৯ সালে মারা যাওয়ায় মামলার অভিযোগপত্র আর দাখিল করা যাবে না। একটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। তারপর আদালত এ মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলেও উল্লেখ করেন এই পিবিআই কর্মকর্তা।

 Save as PDF


এ জাতীয় আরো খবর...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর