
ভোট জালিয়াতি ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ: গাইবান্ধা-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত ও পুনঃভোটের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা | তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ গাইবান্ধা-০৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ব্যাপক কারচুপি, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ তুলেছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুর রহিম সরকার। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে বিতর্কিত ৫টি কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণ এবং আসনের সকল কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল অভিযোগসমূহ:
প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ব্যাপক জাল ভোট প্রদান করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিশেষ করে ৫টি কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন:
- ১২০ নং কেন্দ্র (বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়): প্রায় ৬০-৭০ জন কর্মী পোলিং অফিসারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষে সিল মারে।
- ১২৪ নং কেন্দ্র (কুমিরাডাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়): এখানেও একইভাবে এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
- ১২৫ নং কেন্দ্র (গোপালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়): বিএনপির বিপুল সংখ্যক কর্মী কেন্দ্রে প্রবেশ করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট প্রদান করে।
- ১০৫ নং কেন্দ্র (কোচারশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়): কেন্দ্রটি দখল করে ব্যাপক হারে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
- ১১৭ নং কেন্দ্র (দামগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়): এই কেন্দ্রেও পোলিং অফিসারদের জিম্মি করে ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা হয়।
প্রমাণ ও আইনি পদক্ষেপ:
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহিম সরকার বলেন, “এই অনিয়মের বিষয়ে আমার কাছে পর্যাপ্ত স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি:
তিনি নির্বাচন কমিশনের নিকট আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়ে তিনটি প্রধান দাবি পেশ করেন:
- ঘোষিত ফলাফল অবিলম্বে স্থগিত করা।
- উল্লিখিত ৫টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা।
- উক্ত আসনের সকল কেন্দ্রের ভোট পুনরায় সুষ্ঠুভাবে গণনা করে সংশোধিত ফলাফল ঘোষণা করা।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট ছিনতাই করে কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি 











