বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: গাইবান্ধায় বিধবা নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

  • ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: গাইবান্ধায় বিধবা নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এক বিধবা নারীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার পূর্ব কোমরনই ছয়ঘড়িয়া এলাকায়। ভুক্তভোগী মোছাঃ আঁখি তারা বেগম (বিধবা) গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর থানা-য় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে প্রতিবেশী বাবু, সুজন ও রেজাউলদের সঙ্গে আঁখি তারা বেগমের পরিবারের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এর জের ধরে পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, লোহার রড ও ধারালো ছোরা নিয়ে আঁখি তারা বেগমের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির গেট ও টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করে প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এ সময় আঁখি তারা বেগমের ছেলে মামুন মিয়া (২২) বাধা দিতে গেলে আসামী সুজন মিয়ার নির্দেশে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। বাবু মিয়া লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং সুজন মিয়া শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ভাতিজা রুবেল ও ভাতিজি রশনী আক্তার এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। এ সময় আসামী জোহা মিয়ার বিরুদ্ধে রশনী আক্তারের শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় অভিযুক্তরা ঘর থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য জমানো নগদ টাকা, প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি দামী স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল-এ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আঁখি তারা বেগম জানান, আসামীদের হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানা-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Farhan Shekh

জনপ্রিয়

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: গাইবান্ধায় বিধবা নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: গাইবান্ধায় বিধবা নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

Update Time : ১২:৪৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ: গাইবান্ধায় বিধবা নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এক বিধবা নারীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার পূর্ব কোমরনই ছয়ঘড়িয়া এলাকায়। ভুক্তভোগী মোছাঃ আঁখি তারা বেগম (বিধবা) গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর থানা-য় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে প্রতিবেশী বাবু, সুজন ও রেজাউলদের সঙ্গে আঁখি তারা বেগমের পরিবারের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এর জের ধরে পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, লোহার রড ও ধারালো ছোরা নিয়ে আঁখি তারা বেগমের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির গেট ও টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করে প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এ সময় আঁখি তারা বেগমের ছেলে মামুন মিয়া (২২) বাধা দিতে গেলে আসামী সুজন মিয়ার নির্দেশে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। বাবু মিয়া লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং সুজন মিয়া শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ভাতিজা রুবেল ও ভাতিজি রশনী আক্তার এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। এ সময় আসামী জোহা মিয়ার বিরুদ্ধে রশনী আক্তারের শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় অভিযুক্তরা ঘর থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য জমানো নগদ টাকা, প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি দামী স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল-এ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আঁখি তারা বেগম জানান, আসামীদের হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানা-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।