গাইবান্ধায় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অবৈধ নির্মাণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
গাইবান্ধা সদর উপজেলার শুংশুগীর মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম তপন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভবন নির্মাণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জীবনের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী মো. আরিফ ফুয়াদ প্রভাব খাটিয়ে তার বসতবাড়ির জানালা, দরজা, বারান্দার গ্রিল ও ছাদের শানসাইট বন্ধ করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজের কারণে অভিযুক্তের ভবনের একটি অংশ তার ছাদের ভেতরে ঢুকে পড়েছে, ফলে বৃষ্টির পানি সরাসরি তার বাড়ির ছাদ ও দেয়ালে পড়ে ঘর স্যাঁতসেঁতে হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, পানি চুইয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করায় আসবাবপত্র, ফার্নিচার, ঔষধসহ বিভিন্ন মালামাল নষ্ট হচ্ছে এবং পানির মোটরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের দেয়ালে ড্যাম্প সৃষ্টি হওয়ায় যে কোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নজরুল ইসলাম তপনের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে আরিফ ফুয়াদ ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে এবং তার স্ত্রীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেন। এমনকি গুম, অপহরণ এবং তার স্ত্রীকে সন্ত্রাসী দিয়ে ইজ্জতহানির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া রাতের বেলায় বাড়িতে লোক ঢুকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ঘরের গ্রিল দিয়ে পানি ছিটিয়ে ঘরের ঔষধ ও অন্যান্য মালামাল নষ্ট করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একাধিকবার অভিযোগ করার পাশাপাশি গাইবান্ধা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ, হুমকি-ধামকির সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, তার ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রতিকারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আরিফ ফুয়াদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি চাকরিতে আছি। আমার নিজস্ব জায়গায় বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।