গাইবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, ২৪ লাখ টাকার টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর গিদারী ইউনিয়নের প্রধানের বাজার এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা, মারধর, নারীকে শ্লীলতাহানি এবং নগদ ১২ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী একটি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হামলায় আহত পরিবারের সদস্যরা গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারী মোঃ শ্রাবন মিয়া (২০) দাবি করেছেন। তিনি প্রধানের বাজার এলাকার মৃত সাবেদ আলী বেপারীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রাবন মিয়া পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি প্রায় ২৬ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে নির্মিত দোকানঘর ভাড়া দিয়ে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী হামিদ প্রামানিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন ভোরে শ্রাবন মিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা লাঠিসোঁটা, লোহার রড, ছোড়া, শাবল, হাতুড়ি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী মোছা. সাইয়্যাদা জান্নাত স্বর্ণের পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শ্রাবনের মা মোছা. বেবি বেগম (৬০)-কেও মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রাবন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র গলায় ঠেকিয়ে মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
শ্রাবন মিয়ার অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আলমারিতে রাখা ব্যবসার নগদ ১২ লাখ টাকা এবং আনুমানিক ২২ লাখ টাকা মূল্যের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সব মিলিয়ে লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩৪ লাখ টাকা বলে তিনি দাবি করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের চেষ্টা করলে তাঁরা কোনোভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রক্ষা পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত পরিবারের সদস্যদের অটোরিকশাযোগে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে অভিযুক্তরা তাঁর বাড়ি ও দোকানঘর অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে মোঃ শ্রাবন মিয়া অভিযুক্ত হামিদ প্রামানিকসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।