
চড়া সুদের ফাঁদে বিপুলের মৃত্যু, গাইবান্ধায় সুদারুদের বিরুদ্ধে ডিবির অভিযান দাবি
গাইবান্ধা শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চড়া সুদের কারবার। অভিযোগ রয়েছে, এই কারবারিদের চাপ, হুমকি, লাঞ্ছনা ও বাড়িঘর দখলের ভয় দেখিয়ে বিপাকে ফেলা হচ্ছে ঋণগ্রস্ত মানুষদের। এরই মধ্যে চড়া সুদের ঋণের বোঝা ও মানসিক চাপের কারণে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মৃত্যুর আগে পকেটে রেখে যাওয়া একটি চিরকুটে ছয়জনের নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরিবারের অভিযোগ, চড়া সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি বাড়ি দখলের হুমকি ও সামাজিকভাবে হেয় করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিপুল কয়েকজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তার ওপর চাপ বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো ও মানসিকভাবে চাপে রাখা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ, গাইবান্ধা শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চড়া সুদের কারবার চালিয়ে আসছে। ঋণের টাকা ও সুদ আদায়ের নামে অনেককে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সুদের টাকা দিতে দেরি হলে ঋণগ্রহীতাদের ভয়ভীতি দেখানো, বাড়িতে গিয়ে অপমান করা, ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়া এবং সেগুলো ব্যবহার করে মামলার ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটছে। কোথাও কোথাও লোকজন দিয়ে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
বিপুলের মৃত্যুর ঘটনায় এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, চড়া সুদের কারবারে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক।
এলাকাবাসীর দাবি, বিপুলের মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া চিরকুটে উল্লেখ করা ছয়জনের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জেলায় চড়া সুদের অবৈধ কারবারে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তাদের আশঙ্কা, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকার না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক পরিবার এমন সংকটের মুখে পড়তে পারে। তারা বিপুলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।