ফুলছড়ির দুর্গম চরাঞ্চলে অনুমোদনহীন ‘তালতলা ফিলিং স্টেশন ইউএনওর কাছে অভিযোগ
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তালতলা ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও মবিল বিক্রির অভিযোগে বৈধ ব্যবসায় বাধা এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে অভিযোগটি দাখিল করেন ফুলছড়ি বাজারের মেসার্স এমআই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ মাহিদুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার ৭ নম্বর ফজলুপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খাটিয়ামারী মৌজার তালতলা বাজারে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই ফিলিং স্টেশন স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও মবিলের ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ফিলিং স্টেশনটির আশপাশে রয়েছে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, তালতলা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারীর কাছে প্রতিষ্ঠানের বৈধতা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী তাঁর আবেদনের সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স, আয়কর রিটার্ন, যমুনা অয়েল কোম্পানির ক্যাশ মেমোসহ বিভিন্ন নথি সংযুক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুর্গম চরাঞ্চলে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বৈধ অনুমোদন নিশ্চিত করতে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।