জমি ক্রয়ের টাকা আত্মসাৎ ও উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বিচার দাবি

জমি ক্রয়ের টাকা আত্মসাৎ ও উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বিচার দাবি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় জমি ক্রয়ের বিপরীতে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ এবং পৈতৃক জমি থেকে উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোঃ পারভেজ মন্ডল (৩৮) প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ পারভেজ মন্ডল উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম শামসুজ্জোহা সরকার (ডাবলু)-এর কাছ থেকে ২০১৮ সালে জমি ক্রয়ের জন্য নগদ ৯ লাখ টাকা প্রদান করলেও এখন পর্যন্ত জমির রেজিস্ট্রি পাননি। উল্টো ওই জমি দখলের চেষ্টা ও উচ্ছেদের হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মরহুম শামসুজ্জোহা সরকার জীবিত থাকাকালীন আর্থিক সংকটের কারণে ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে বেতকাঁপা মৌজার ৮১ দাগের ১ একর ১৩ শতাংশ জমি বিক্রয়ের প্রস্তাব দেন। পারভেজ মন্ডল পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় জমিটি ক্রয়ে সম্মত হন। এর মধ্যে ব্যবসার জমানো অর্থ ও পালিত গরু বিক্রি করে অত্যন্ত কষ্টার্জিত ৯ লাখ টাকা নগদ প্রদান করেন তিনি।
উক্ত লেনদেনটি পাঁচজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা মহামারীর সময় আর্থিক সংকটে পড়ায় অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে জমির মালিক শামসুজ্জোহা সরকার মৃত্যুবরণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে পারভেজ মন্ডল উক্ত জমি ভোগদখল করে আসলেও সম্প্রতি মরহুমের সন্তানেরা কোনো আলোচনা বা মীমাংসা ছাড়াই জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি পূর্বে দেওয়া টাকা ফেরত দিতেও তারা অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে পারভেজ মন্ডল বলেন, “আমার জীবনের শেষ সম্বল বিক্রি করে এই জমির টাকা দিয়েছি। আজ আমি টাকা ও জমি দুটোই হারানোর শঙ্কায় আছি। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্ত সাপেক্ষে টাকা ফেরত ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধান হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *