গাইবান্ধায় জমি বিরোধে হামলা, নারীসহ স্বামী আহত; টাকা লুটের অভিযোগ

গাইবান্ধায় জমি বিরোধে হামলা, নারীসহ স্বামী আহত; টাকা লুটের অভিযোগ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই (দশানী) এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারীসহ তার স্বামী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নগদ ২ লাখ টাকা লুট ও বাড়িঘর ভাঙচুরেরও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে পূর্ব বিরোধের জেরে গোলাম মোস্তফা (৬০), তার ছেলে মহাসিন আলী (২৫), স্ত্রী মাকছুদা বেগম (৫৫)সহ ১০/১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগী মোঃ ইউসুফ আলীর বসতবাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব পাশে তাদের মালিকানাধীন জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে।
এসময় তারা ইউসুফ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। ইউসুফ আলীর স্ত্রী রাশেদা আক্তার বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে লাঠি ও লোহার শাবল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, মহাসিন আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে সেখানে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া গোলাম মোস্তফা শাবল দিয়ে আঘাত করে তার কোমরে হাড় ভেঙে দেয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেন স্বামী ইউসুফ আলী। স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার চোখের উপর কাটা জখম হয়।
পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বসতঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং ঘরে থাকা ড্রয়ার থেকে জমির বন্ধকের নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মোঃ ইউসুফ আলী বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *