
জমি-জমার বিরোধে দম্পতির ওপর হামলা, স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্রে আঘাত; হাসপাতালে স্বামী ও স্ত্রী চিকিৎসাধীন
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কুমেদপুর এলাকায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক দম্পতির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে স্ত্রীর বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২৫টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন কুমেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আশাদুল শেখ (৩২) এবং তার স্ত্রী মোছা. ববিতা বেগম।
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে ভাগী-শরিকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ২ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে কুমেদপুর ডিবের বাজার জামে মসজিদের সামনে বাজার করতে গেলে আশাদুল শেখ ও তার স্ত্রীর পথরোধ করে একদল ব্যক্তি।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাঁশের লাঠি, লোহার রড, পাইপ, ধারালো বেকি ও চাকু দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আশাদুল শেখের হাত, পাঁজর ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে ১৬ টা সেলাই দেওয়া হয়। অন্যদিকে ববিতা বেগমের বুকে, পেটে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক সেলাই দিয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
হামলার সময় তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আহত আশাদুল শেখ বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ফরিদুল ইসলাম, মমিন মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও ফরিদা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নিয়াম শেখ গাইবান্ধা প্রতিনিধি 








