বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশাশুনিতে সুদের টাকা না পেয়ে গ্রাহকের বসতঘরে তালা দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আশাশুনিতে সুদের টাকা না পেয়ে গ্রাহকের বসতঘরে তালা দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে সুদের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে এক গ্রাহকের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং ঘরের মালামাল লুটের অভিযোগ তুলে প্রতিকারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খাদিজা খাতুন নামে এক গৃহবধূ।
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
খাদিজা খাতুন আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে মাছের ঘেরে লোকসান হওয়ায় তার স্বামী মনিরুল ইসলাম আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সময় জমির মালিকের পাওনা পরিশোধের জন্য প্রতিবেশী মতলেব ঢালীর ছেলে আফতাবুজ্জামান ওরফে খোকন ঢালীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেওয়া হয়।
খাদিজা খাতুনের দাবি, চরম আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি চুক্তিপত্রে তার স্বামী ও একমাত্র ছেলে উসমান গণির স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে দৈনিক ১০ টাকা হারে সুদের চুক্তি অনুযায়ী মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে সাত মাসে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আবার মাছের ঘের লিজ নিয়ে লোকসানের মুখে পড়ায় জীবিকার সন্ধানে তারা বসতবাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় অবস্থানকালে সুদের টাকা দিতে না পারার সুযোগে তাদের বসতঘরের তালা ভেঙে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া, বসতবাড়ি সংলগ্ন বেতনা নদী খননকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছে তাদের দুই কক্ষের বাড়ি ভাড়া দিয়ে অভিযুক্ত খোকন ঢালী ভাড়ার টাকা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ করেন খাদিজা খাতুন।
তিনি বলেন, বাড়িতে ফিরে তারা বসতঘরে তালা ঝুলতে দেখেন। পরে জানতে পারেন, টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ফলে গত কয়েকদিন ধরে তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা খাতুন বলেন, “৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও আজ আমরা ঘরছাড়া। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চাই।”
তিনি সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তের হাত থেকে তাদের রক্ষা করার দাবি জানান।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আফতাবুজ্জামান ওরফে খোকন ঢালীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Farhan Shekh

আশাশুনিতে সুদের টাকা না পেয়ে গ্রাহকের বসতঘরে তালা দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আশাশুনিতে সুদের টাকা না পেয়ে গ্রাহকের বসতঘরে তালা দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৬:৩৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশাশুনিতে সুদের টাকা না পেয়ে গ্রাহকের বসতঘরে তালা দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে সুদের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে এক গ্রাহকের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং ঘরের মালামাল লুটের অভিযোগ তুলে প্রতিকারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খাদিজা খাতুন নামে এক গৃহবধূ।
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
খাদিজা খাতুন আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে মাছের ঘেরে লোকসান হওয়ায় তার স্বামী মনিরুল ইসলাম আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সময় জমির মালিকের পাওনা পরিশোধের জন্য প্রতিবেশী মতলেব ঢালীর ছেলে আফতাবুজ্জামান ওরফে খোকন ঢালীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেওয়া হয়।
খাদিজা খাতুনের দাবি, চরম আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি চুক্তিপত্রে তার স্বামী ও একমাত্র ছেলে উসমান গণির স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে দৈনিক ১০ টাকা হারে সুদের চুক্তি অনুযায়ী মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে সাত মাসে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আবার মাছের ঘের লিজ নিয়ে লোকসানের মুখে পড়ায় জীবিকার সন্ধানে তারা বসতবাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় অবস্থানকালে সুদের টাকা দিতে না পারার সুযোগে তাদের বসতঘরের তালা ভেঙে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া, বসতবাড়ি সংলগ্ন বেতনা নদী খননকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছে তাদের দুই কক্ষের বাড়ি ভাড়া দিয়ে অভিযুক্ত খোকন ঢালী ভাড়ার টাকা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ করেন খাদিজা খাতুন।
তিনি বলেন, বাড়িতে ফিরে তারা বসতঘরে তালা ঝুলতে দেখেন। পরে জানতে পারেন, টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ফলে গত কয়েকদিন ধরে তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা খাতুন বলেন, “৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও আজ আমরা ঘরছাড়া। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চাই।”
তিনি সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তের হাত থেকে তাদের রক্ষা করার দাবি জানান।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আফতাবুজ্জামান ওরফে খোকন ঢালীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।