রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, বরকে দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

Oplus_16908288

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, বরকে দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে মা-বাবার ইচ্ছায় করা হয় ব্যতিক্রমী এ আয়োজন। বরকে একনজর দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। অন্যদিকে কনে সুরাইয়া আক্তার বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত।’

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রাম থেকে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাকিব। সঙ্গে ছিলেন তাঁর একমাত্র দুলাভাই। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁরা ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছান।

সাকিব চকনদী গ্রামের সাইদ আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তাঁর কনে সুরাইয়া আক্তার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার বড় মেয়ে।

সাইদ আলীর পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতিতে চড়ে বরযাত্রার আয়োজন করা হয়।

বর হাতির পিঠে চড়ে আসছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে হিংগারপাড়া গ্রামে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বরকে দেখতে কনের বাড়ির আশপাশে জড়ো হন। স্থানীয়দের কাছে এ ধরনের বরযাত্রা ছিল এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

সাকিবের বোন বলেন, “বাবা-মায়ের ইচ্ছাতেই এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।”

কনের বাবা খোকন মিয়া বলেন, “বর হাতির পিঠে চড়ে আসছে, এতে আমি খুশি।”

অন্যদিকে কনে সুরাইয়া আক্তার বলেন, “আমার বর হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে আসছে। সবাই দেখলেও আমি স্বচক্ষে দেখতে পেলাম না। তবে আমি খুবই আনন্দিত।”

বর সাকিবের আনন্দও ছিল চোখে পড়ার মতো। মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে তাঁর মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আমাদের এলাকায় এ ধরনের বিয়ে এই প্রথম। তাই আমরাও দেখতে এসেছি। আমরা উভয়ের মঙ্গল কামনা করছি।”

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের বিয়ে করতে যাওয়ার এ আয়োজন দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ব্যতিক্রমী এ বরযাত্রা স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, বরকে দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

Update Time : ০৩:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, বরকে দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে মা-বাবার ইচ্ছায় করা হয় ব্যতিক্রমী এ আয়োজন। বরকে একনজর দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। অন্যদিকে কনে সুরাইয়া আক্তার বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত।’

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রাম থেকে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাকিব। সঙ্গে ছিলেন তাঁর একমাত্র দুলাভাই। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁরা ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছান।

সাকিব চকনদী গ্রামের সাইদ আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তাঁর কনে সুরাইয়া আক্তার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার বড় মেয়ে।

সাইদ আলীর পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতিতে চড়ে বরযাত্রার আয়োজন করা হয়।

বর হাতির পিঠে চড়ে আসছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে হিংগারপাড়া গ্রামে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বরকে দেখতে কনের বাড়ির আশপাশে জড়ো হন। স্থানীয়দের কাছে এ ধরনের বরযাত্রা ছিল এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

সাকিবের বোন বলেন, “বাবা-মায়ের ইচ্ছাতেই এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।”

কনের বাবা খোকন মিয়া বলেন, “বর হাতির পিঠে চড়ে আসছে, এতে আমি খুশি।”

অন্যদিকে কনে সুরাইয়া আক্তার বলেন, “আমার বর হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে আসছে। সবাই দেখলেও আমি স্বচক্ষে দেখতে পেলাম না। তবে আমি খুবই আনন্দিত।”

বর সাকিবের আনন্দও ছিল চোখে পড়ার মতো। মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে তাঁর মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আমাদের এলাকায় এ ধরনের বিয়ে এই প্রথম। তাই আমরাও দেখতে এসেছি। আমরা উভয়ের মঙ্গল কামনা করছি।”

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের বিয়ে করতে যাওয়ার এ আয়োজন দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ব্যতিক্রমী এ বরযাত্রা স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।