
গাইবান্ধায় জমি বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, ৫৫টি গাছ কাটার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী মুন্সিরভিটা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, ৫৫টি গাছ কেটে ফেলা, নগদ টাকা লুট ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আপন ফুফু হামিদা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আমজাদ হোসেন (৪২)।
রবিবার (৮ নভেম্বর) গাইবান্ধা শহরের সমবায় মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমজাদ হোসেন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হামিদা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বাড়ির সীমানায় থাকা ছোট-বড় ৫৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়। দুটি টিনের ঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এ ছাড়া স্টিলের বাক্সে রাখা অটোভ্যান বিক্রির ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
আমজাদের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে তাঁকে, তাঁর বড় বোন আলেমা বেগম ও ছোট ভাই আব্দুস সালামকে মারধর করা হয়। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। তাঁর ভাইয়ের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত, বোনের হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ এবং শ্লীলতাহানি ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁদের মা মানসিক ভারসাম্যহীন। দুই ভাই ঢাকায় বিভিন্ন কাজ করে কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করেন। আপন ফুফু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিজেদের জমিতে যেতে চাইলেও বাধা ও মারধরের শিকার হতে হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় হামিদা বেগম, মাজেদুল ইসলাম খোকন, শাহাদত হোসেন সেবু, মফিজল হক, হারুন মিয়া ও আব্দুল হামিদসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আমজাদ হোসেন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জমির জাল দলিলের অভিযোগ তদন্ত এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি 












