Category: জাতীয়

  • আগামী তিনদিন কমতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা

    আগামী তিনদিন কমতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা

    সারা দেশের অনেক জায়গায় জেঁকে বসেছে শীত। রাজধানীতেও শীতের অনুভূতি কিছুটা বেড়েছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিম বাতাস যোগ হওয়ায় শীতের মাত্রা অনেকটা বেড়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে শীতে নিয়ে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া আবহাওয়া বার্তায় জানানো হয়েছে, সারা দেশে আগামী তিনদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমবে। তবে আগামী পাঁচদিনের প্রথম থেকেই তাপমাত্রা আবারও বাড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সঙ্গে দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে।

    এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং তা অন্যত্র সামান্য হ্রাস পেতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

  • চেয়ারম্যান-মেয়র হতে লাগবে স্নাতক ডিগ্রি, হবে না সরাসরি ভোট

    চেয়ারম্যান-মেয়র হতে লাগবে স্নাতক ডিগ্রি, হবে না সরাসরি ভোট

    মেয়র (পৌরসভা-সিটি করপোরেশন) ও চেয়ারম্যান (ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা পরিষদ) পদে সরাসরি ভোট হবে না। এসব পদে যারা নির্বাচন করবেন, তাদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে গ্র্যাজুয়েট (স্নাতক) বা সমমান। নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিতরা নির্বাচন করতে পারবেন না। মতামত বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই করে এমন সুপারিশ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন।বুধবার (২২ জানুয়ারি) মাঠ পর্যায়ে মতামত নেওয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এমন সিন্ধান্তে উপনিত হয়েছে কমিশন। এখন চলছে সংকলন কার্যক্রম। এর পর আরেক দফা যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    সংস্কার কমিশনের প্রধান স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘সারাদেশ থেকে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, দল-পেশিশক্তি ও টাকা-পয়সার কারণে শিক্ষিত লোকজন জনপ্রতিনিধি হতে পারেন না। নিরক্ষর লোকদের দাপটে সজ্জন, গুণী ও শিক্ষিতরা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিরক্ষর লোক যেন জনপ্রতিনিধি হতে না পারেন, শিক্ষিতরা জনপ্রতিনিধি হতে আগ্রহী হন এবং বিজয়ী হয়ে আসতে পারেন– এমনভাবে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হবে। কিন্তু ভোটে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার কোনো মানদণ্ড সংবিধানে উল্লেখ নেই। ভোটে অংশগ্রহণে তাদের বাদ দেওয়ারও সুযোগ নেই। এ জন্য কৌশলী হতে হচ্ছে কমিশনকে।

    জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যদের (মেম্বার) ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। আর ইউপি সদস্যরা ভোট দিয়ে একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। চেয়ারম্যানকে অবশ্যই স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। তা না হলে তিনি চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। একইভাবে ইউপি সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সভাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হবে। তাকেও স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। একই পদ্ধতিতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় সরাসরি ভোটে মেয়র নির্বাচিত হতে পারবেন না।

    আরও জানা গেছে, কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে মেয়র ও সভাধ্যক্ষ নির্বাচিত হবেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেয়রদের দায়িত্ব হবে সার্বক্ষণিক। ইউপি চেয়ারম্যানদের বেতন হবে উপজেলা পর্যায়ের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার সমান। পৌরসভার মেয়রের বেতন হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমান। সিটি করপোরেশনের মেয়রের বেতন হবে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরে। চেয়ারম্যান বা মেয়রদের কেউ স্নাতক ডিগ্রিধারীর নিচে হতে পারবেন না।

    স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা ও জেলা পরিষদে প্রায় একইভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। ইউপি, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে একটি ছায়া পরিষদ থাকবে। তারা ইউপি সদস্য বা কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। তারা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন সভাধ্যক্ষরা। সেখানে উন্নয়ন, পরিকল্পনা প্রণয়নসহ লেজিসলেটিভ (আইনি) অংশ দেখবেন।

    আর চেয়ারম্যান-মেয়ররা নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম তদারকি করবেন। স্থানীয় সরকারে উপদেষ্টা বা কোনো পদে থাকতে পারবেন না সংসদ সদস্যরা (এমপি)। সভায় উপস্থিত হয়ে শুধু মতামত দিতে পারবেন। কমিশন মনে করে, এমপিদের প্রভাবের কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। তারা এমপিনির্ভর হয়ে পড়েছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারে জাতীয় সংসদের মতো স্থায়ী কমিটি থাকবে।

    প্রতিটি উপজেলাকে তিন বা ততোধিক ওয়ার্ডে ভাগ করে স্থানীয় সরকারের সদস্যদের মধ্য থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। সদস্যদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে না। তারা পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রণয়ন করবেন।

  • আজ দেশে ফিরছেন প্রধান উপদেষ্টা

    আজ দেশে ফিরছেন প্রধান উপদেষ্টা

    সুইজারল্যান্ডে ৪ দিনের সফর শেষে শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দেশে ফিরছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভা এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের পার্শ্ব ইভেন্টের সময় কমপক্ষে ৪৭টি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।‌ প্রধান উপদেষ্টা ডব্লিউইএফ চলাকালীন খুব ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন এবং তিনি বেশ কয়েকজন সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন।

    প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এক তথ্য বিবরণীতে জানান, অধ্যাপক ইউনূস ডব্লিউইএফ শীর্ষ সম্মেলনের সময় মোট ৪৭টি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তিনি চারজন সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান, চারজন মন্ত্রী পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি, জাতিসংঘ/সদৃশ সংস্থার ১০ জন প্রধান বা শীর্ষ নির্বাহী, ১০ জন সিইও/উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব, ৯ আয়োজিত অনুষ্ঠান (আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ এবং মধ্যাহ্নভোজ-০৪), ৮টি মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আরও দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    ২১ জানুয়ারি দাভোসে পৌঁছানোর পর থেকে, অধ্যাপক ইউনূস বার্ষিক সভায় বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে তার বিস্তৃত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন কাটান।

    ২১ জানুয়ারি তার সফরের প্রথম দিনে, প্রধান উপদেষ্টা শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজের সঙ্গে বৈঠক করেন। অধ্যাপক ইউনূস পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্রপতি জোসে রামোস-হোর্তা, মিউনিখ সুরক্ষা সম্মেলনের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ হিউসজেন, থাই প্রধানমন্ত্রী পায়োংটার্ন সিনাওয়াত্রা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্যান্ডি এবং ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

    দ্বিতীয় দিন (২২ জানুয়ারি) তিনি প্রায় ১৪টি প্রোগ্রাম এবং পার্শ্ব ইভেন্টে যোগ দেন। প্রধান উপদেষ্টা জার্মানির ফেডারেল চ্যান্সেলারির প্রধান এবং বিশেষ কার্যনির্বাহী মন্ত্রী উলফগ্যাং শ্মিট, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়োংটার্ন সিনাওয়াত্রা, সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল পররাষ্ট্র বিভাগের ফেডারেল কাউন্সিলর ইগনাজিও ক্যাসিস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সংস্কৃতি ও শিল্প কর্তৃপক্ষের চেয়ারপারসন শেখা লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, কঙ্গোর রাষ্ট্রপতি ফেলিক্স শিসেকেদি, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রাক্তন মার্কিন বিশেষ দূত জন কেরি, প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার টার্কসহ অন্যান্যদের সঙ্গে ডব্লিউইএফ-এ বৈঠক করেন।

    অধ্যাপক ইউনূস শীর্ষ সম্মেলনের সময় ‘জলবায়ু ও প্রকৃতির অবস্থা’ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেন এবং দাভোসের একটি হোটেলে সামাজিক উদ্যোক্তাদের জন্য শোয়াব ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    তৃতীয় দিন (২৩ জানুয়ারি) অধ্যাপক ইউনূস ১৪টি নির্ধারিত অনুষ্ঠান এবং অনেক পার্শ্ব কর্মসূচিতে যোগ দেন।

    তিনি মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেডের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট স্যার নিক ক্লেগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত-ভিত্তিক গ্লোবাল লজিস্টিকস প্রোভাইডার ডিপি ওয়ার্ল্ডের গ্রুপ চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম, অধিকার গোষ্ঠী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড, ডেনিশ শিপিং এবং লজিস্টিক কোম্পানি এ.পি. মোলার-মারস্কের চেয়ারম্যান রবার্ট মারস্ক উগলা এবং বিশ্বব্যাংকের অপারেশনস বিভাগের এমডি আনা বিজের্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা ডব্লিউইএফ শীর্ষ সম্মেলনে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াব আয়োজিত একান্ত বৈঠকে যোগ দেন এবং বৈঠকের ফাঁকে দাভোসের ক্লাইমেট হাবে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন।

    শুক্রবার শেষ দিনে, প্রধান উপদেষ্টা সাতটিরও বেশি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শীর্ষ সম্মেলনের সময় আমেরিকান বিনিয়োগকারী রে ডালিও, মারিনো ম্যানেজমেন্ট এবং ডালিও ফ্যামিলি অফিসের প্রতিষ্ঠাতা, অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া জেনেল গ্রুপের (রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল কোম্পানি) নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আমের আলীরেজা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন।

    এর আগে ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগদানের জন্য জুরিখে পৌঁছান।

  • ফেসবুকে ড. ইউনূসের পদত্যাগের গুজব শুনে আওয়ামী লীগের শোডাউন, আটক ২

    ফেসবুকে ড. ইউনূসের পদত্যাগের গুজব শুনে আওয়ামী লীগের শোডাউন, আটক ২

    নোয়াখালীর চাটখিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের গুজব শুনে শোডাউন করার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে আসামিদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।  এর আগের দিন শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানসা বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন- ইব্রাহিম খলিল ওরফে রাসেল (৪২)। তিনি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানসা গ্রামের জমাদার বাড়ির মৃত রুহুল আমিনের ছেলে। আরেকজন গোলাম কিবরিয়া ওরফে লিটন (৪৫)। তিনি একই গ্রামের ইসমাইল বেপারী বাড়ির মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে।

    চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ  ইউনূসের পদত্যাগের গুজব শুনে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানসা বাজারে শোডাউন করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একদল নেতাকর্মী। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিএনপি ও চাটখিল থানা পুলিশ। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দুই জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। রাসেল মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ও লিটন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

    স্থানীয় ৫ নং মোহাম্মাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মেহেদি হাসান বাহালুল বলেন, আটককৃতরা আওয়ামী লীগ সমর্থক, তবে সক্রিয়কর্মী না।ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের ২৫-৩০ জন নেতাকর্মীর শোডাউনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। ওই সময় স্থানীয় বিএনপির লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় মামলা হবে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে: ইসি মাছউদ

    জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে: ইসি মাছউদ

    চলতি বছরের শেষের দিকে অথবা ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসি মাছউদ বলেন, কোনোভা‌বেই প্রভাবান্বিত হওয়ার সু‌যোগ নেই। প্রধান উপদেষ্টা ঘো‌ষিত সম‌য়ের ম‌ধ্যে এ নির্বচন অনুষ্ঠিত হ‌বে। ভোটগ্রহণের প‌রি‌বেশ সুন্দরভা‌বে সৃ‌ষ্টি হ‌বে।

    স্থানীয় নির্বাচন নয় বরং এখন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কাজ চলছে জানিয়ে ইসি বলেন, দেশজুড়ে ৩৫ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে কাজ করছেন। তথ্যসংগ্রহকারীদের আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় ভুল হচ্ছে, এতে মানুষ সেবা নিতে পারছে না। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা দরকার।

    তিনি বলেন,আমরা জা‌তিকে প্রভাবমুক্ত থেকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই। কোনোভাবেই প্রভাবা‌ন্বিত হওয়ার সুযোগ নেই।

  • বিদিশার বিরুদ্ধে এরশাদের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ

    বিদিশার বিরুদ্ধে এরশাদের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ

    জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জবরদখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট। বুধবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ আনা হয়। ‘এরশাদপুত্র শাহাতা জারাব এরশাদ এরিকের নিরাপত্তাজনিত বিষয়, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের হয়রানি এবং ট্রাস্টের সম্পত্তি জবরদখলের ষড়যন্ত্রের’ বিষয়টি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    লিখিত বক্তব্যে কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল সম্পাদিত এক দলিলে ট্রাস্ট গঠন করে তার বিষয়-সম্পত্তির বড় অংশ দান করেন এরশাদ। ট্রাস্টের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ছেলে শাহাতা জারাব এরিকের ভরণ-পোষণ ও জনহিতকর কাজে ব্যয় হবে সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়। ট্রাস্টের আয় ভোগ ও কর্মকাণ্ডে অংশীদার হতে পারবেন না বিদিশা। তিনি এমন দাবি করলে তা আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি তিনি প্রেসিডেন্ট পার্কেও থাকতে পারবেন না।

    তিনি বলেন, কিন্তু এরশাদের মৃত্যুর চার মাস পরই পুত্র এরিককে খাওয়ানোর কথা বলে বারিধারা প্রেসিডেন্ট পার্কে ঢোকেন এরশাদের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। ট্রাস্টের অসিয়ত না মেনেই নিকেতনে তার নিজস্ব ফ্ল্যাট থাকতেও তিনি আর প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে বের হননি। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রেসিডেন্ট পার্কের পুরনো সব কর্মচারীদের বিদায় করে দেন তিনি। বর্তমানে বিদিশা প্রেসিডেন্ট পার্কেই অবস্থান করছেন এবং সেখানে তিনি স্বেচ্ছাচারিতামূলক জীবনযাপন করছেন।

    bidisha-20231020190723

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এরিকের খরচ বাবদ প্রতিমাসে বনানীর কুয়েত মৈত্রী মার্কেটে একটি দোকান, গুলশান ও বনানীতে দুইটি ফ্লাট থেকে প্রাপ্ত ভাড়া প্রায় তিন লাখ বিশ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু বিদিশা সিদ্দিক এরিক এরশাদের ভরণ-পোষণের উসিলা দিয়ে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা অর্থ দাবি করে আসছেন ট্রাস্টের কাছে। বিদিশা একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছেন এরিক এরশাদকে।ট্রাস্টভুক্ত সম্পদের বিবরণ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে মামুনুর রশিদ বলেন, ‘২০২২ সালের ১৪ আগস্টের পর থেকে আমরা এরশাদের রেখে যাওয়া ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করিনি। দু’টি ব্যাংকে প্রায় তিন কোটি টাকা ইতিমধ্যে মূল টাকায় যোগ হয়েছে। এছাড়া অসিয়তনামায় বিভিন্ন জনহিতকর কাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা বলা হলেও সেটা আমি নিজ অর্থায়নে করেছি। এরশাদের রেখে যাওয়া একটি টাকাও উত্তোলন করা হয়নি। এরিকের ভরণ-পোষণের জন্য শুধুমাত্র একটি ব্যাংক থেকে কিছু লভ্যাংশ উত্তোলন করা হয়েছে। ট্রাস্ট ব্যাংকে চিঠি দিয়ে লেনদেন বন্ধ রেখেছে। যাতে অবৈধভাবে কেউ অর্থ উত্তোলন করতে না পারে।’

    বর্তমানে ট্রাস্টের অধিকাংশ সম্পদ বিদিশা জবরদখল করে রেখেছেন- এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পার্ক দখলের মাধ্যমে এরশাদের রেখে যাওয়া অর্থের জন্য ট্রাস্ট সদস্যদের একের পর এক হুমকি নিয়ে যাচ্ছেন বিদিশা এবং তার নিযুক্ত সন্ত্রাসী বাহিনী। বিদিশার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরে ট্রাস্টকে মুক্ত করতে প্রশাসনসহ জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে ও সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান মামুনুর রশিদ।

    এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশিদ বলেন, ট্রাস্টের পুনর্গঠনের স্বার্থে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। ট্রাস্টের নতুন কমিটি গঠন করা হবে। যেখানে এরশাদ পরিবারের সদস্যসহ জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা থাকবেন। আমি ট্রাস্টের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমরা চাই এই হস্তক্ষেপ, জবরদখল বন্ধ হোক। ট্রাস্ট নিয়মমাফিক চলুক। পারিবারিকভাবে এটার সুরাহা হোক।

    বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অভিযোগ করেছি। এরিক এরশাদও অভিযোগ করেছেন। উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছে। তাই তদন্তাধীন এ বিষয়ে আপাতত আমরা কোনো মন্তব্য করছি না। তবে এতটুকু বলতে পারি আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

    সংবাদ সম্মেলনে পাঁচবছর আগে ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি রেকর্ডকৃত এরিকের একটি অডিওবার্তা সাংবাদিকদের শোনানো হয়। সেখানে এরিককে বলতে শোনা যায়, ‘আমি এতিম একটি ছেলে, আমাকে বাঁচান। আমার মা বিদিশা এখানে অবৈধভাবে থাকছেন।’ এছাড়া সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার বরাবর পাঠানো এরিক এরশাদের একটি চিঠিও পড়ে শোনানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন ট্রাস্টের সদস্য কাজী মো. মামুনুর রশিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর ও সদস্য খন্দকার মনিরুজ্জামান টিটু।

     

    সুত্র: ইত্তেফাক

  • ছাত্রদের প্রতিনিধি সরকারে রেখে নির্বাচন মানবে না রাজনৈতিক দলগুলো: মির্জা ফখরুল

    ছাত্রদের প্রতিনিধি সরকারে রেখে নির্বাচন মানবে না রাজনৈতিক দলগুলো: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করার পরও যদি সরকারে তাদের প্রতিনিধি থাকে তাহলে সরকার নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না। তারা যদি সরকারে থেকেই নির্বাচন করেন, তাহলে তো রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে না।মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল।

    বিবিসি বাংলার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা একটা রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা ভাবছেন। সেখানে যদি ছাত্রদের প্রতিনিধি এ সরকারে থাকে, তাহলে তো নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না। কিন্তু তারা যদি মনে করেন সরকারে থেকেই নির্বাচন করবেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো সেটা মেনে নেবে না।

    তিনি আরও বলেন, আমরা দ্রুত নির্বাচন চাই, সেটা আগেও বলেছি। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার, যেটা ন্যূনতম সংস্কার, সেগুলো করে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার কথা বলেছি আমরা।

    এসব কথা আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি এবং আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের যে অভিজ্ঞতা দেখেছি আমরা অতীতের কেয়ারটেকার সরকারগুলোতে, তাতে করে এটা অসম্ভব কিছু না। সরকার চাইলে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে বা আগস্টের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব।

    নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট সময় ওইভাবে বলতে চাই না। কারণ এ জন্য যে, তাতে কোনো লাভ হবে না। কারণ সরকারকেও সেটা চাইতে হবে। অন্য দলগুলোকেও চাইতে হবে, সবাইকে একসঙ্গে চাইতে হবে। তবে আমরা মনে করি, যতদ্রুত নির্বাচন হবে দেশের জন্য ততই মঙ্গল হবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আমাদের কথাগুলো শুরু থেকেই স্পষ্ট করে বলে আসছি। বলেছি যে, যতগুলো সংস্কারের মধ্যে হাত দেওয়া হয়েছে, অতগুলো সংস্কার করতে গেলে ১০ বছরের মধ্যেও শেষ হবে না। আর সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। দুই বছর আগে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দিয়েছি আমরা। তার মধ্যে এই বিষয়গুলো তো রয়েছে।

    সংবিধান সংস্কারের বিষয় রয়েছে, জুডিশিয়াল কমিশনের কথা আমরা বলেছি, আমরা ইলেকশন কমিশনের কথা বলেছি, আমরা ব্যুরোক্রেসি সংস্কারের কথা বলেছি ৩১ দফায়, আমরা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের কথা বলেছি -এগুলো সব আমাদের বলা আছে। এখন সেক্ষেত্রে তারা যেটা করেছেন, সেটা কী রিপোর্ট নিয়ে আসছে আমরা জানি না।

    যদি রিপোর্টগুলোয় দেখা যায়, আমাদের সঙ্গে মিলে গেছে, তাহলে তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যেগুলো মিলবে না, সেগুলো তো একটা ন্যূনতম কনসেনসাস হতে হবে। তারপরে সেটা হতে হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, সংস্কার দেওয়া হলো, কিন্তু সেটা অ্যাপ্রুভ করবে কে? তার জন্য তো আইনগতভাবে যাদের অধিকার আছে, তারাই করতে পারবে। দ্যাট ইজ পার্লামেন্ট।

    পার্লামেন্ট ছাড়া কিন্তু কোনো সাংবিধানিক সংস্কার কঠিন হবে। এমনকি অন্য অনেক বিষয় আছে, যেগুলো সংবিধানে কিছু কিছু পরিবর্তন আনার দরকার আছে। কিন্তু সেগুলো পার্লামেন্ট ছাড়া সম্ভব নয়। সে জন্যই আমরা মনে করি, দ্য সুনার দ্য ইলেকশন ইজ বেটার।

  • সাঘাটায় বিএনপির দ্বি বার্ষিক কাউন্সিলের ভোটার তালিকায়  রদবদল করায় মানববন্ধন

    সাঘাটায় বিএনপির দ্বি বার্ষিক কাউন্সিলের ভোটার তালিকায় রদবদল করায় মানববন্ধন

  • আবারও শাহজালালে বোমা হামলার হুমকি

    আবারও শাহজালালে বোমা হামলার হুমকি

    একটি অচেনা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আবারও বিমানে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম।

    এক বার্তায় তিনি জানান, এপিবিএন ডিউটি অফিসারের নম্বরে আমরা আরেকটি সম্ভাব্য হুমকি পেয়েছি অচেনা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে।

    তিনি আরও জানান, প্রোটোকল অনুযায়ী সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দরের সব অপারেশন স্বাভাবিকভাবে চলছে।

    এর আগে বুধবার পাকিস্তানি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এয়ারপোর্ট এপিবিএনের ডিউটি অফিসারের নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি পাকিস্তানি নম্বর থেকে বোমা হামলার হুমকির বার্তা আসে। ওই বার্তায় দাবি করা হয়, রোম থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে উচ্চ মাত্রার ৩৪ কেজি বিস্ফোরক রয়েছে এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মনজুর কবির ভূঁইয়া জানান, বোমা হামলার হুমকির কারণে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ করা হয়, যেন ২৫০ জন যাত্রী ও ১৩ জন ক্রুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    তিনি জানান, এপিবিএন পাকিস্তানি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটিতে যোগাযোগ করেছে। এই হুমকিদাতা বলেছেন, তিনি বার্তাটি হুমকির জন্য নয়, সতর্কতা হিসেবে দিয়েছেন। পরবর্তীতে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি আরও কল ধরেননি।

    তিনি আরও জানান, ফ্লাইট থেকে যাত্রীদের নিরাপদে নামানোর পর ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া ছাড়াই টার্মিনাল ভবনে রাখা হয়েছিল। উড়োজাহাজটিতে ব্যাপক অনুসন্ধানের পরও কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক জিনিস পাওয়া যায়নি।

    সিএএবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রত্যেক যাত্রীর লাগেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক করা হয়েছে। কোথাও বিস্ফোরকের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

    যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দুপুর দেড়টার দিকে তাদের লাগেজ ফেরত দেওয়া হয় বলে বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    ইত্তেফাক/এমএএম
  • হাসিনার গোপন কারাগারে বন্দি থাকত শিশুরাও, মিলত না মায়ের দুধ

    হাসিনার গোপন কারাগারে বন্দি থাকত শিশুরাও, মিলত না মায়ের দুধ

    বাংলাদেশে গোপন কারাগার বা তথাকথিত “আয়নাঘরে” শতাধিক মানুষকে আটকে রাখার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ও তাদের মায়েদের অমানবিক পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছিল। এসব তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

    গত মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয়জন শিশু তাদের মায়েদের সঙ্গে গোপন কারাগারে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছে। আটক নারীদের ওপর নির্যাতনের অংশ হিসেবে তাদের সন্তানদের দুধ পান করানোর সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হতো না। তদন্ত কমিশন বলছে, এসব শিশুদের নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

    কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা যায়, কারাগারে থাকা মায়েদের সঙ্গে শিশুদের অমানবিক আচরণের নজির রয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তাকে ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে বন্দি রাখা হয়েছিল। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন।কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। ২০২৩ সাল পর্যন্তও এ ধরনের গুম এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। একটি ঘটনায় গর্ভবতী নারীকে তার ছোট দুটি সন্তানসহ আটক করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

    কমিশনের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ২০০ বাংলাদেশিকে অপহরণ করেছে, যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মানসিক আঘাতের পাশাপাশি আর্থিক এবং আইনি সংকটে পড়েছে।

    কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অনেক ভুক্তভোগী সরাসরি তাদের নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করতে না পারলেও তাদের জবানবন্দি থেকে জড়িত বাহিনীগুলোকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। কমিশন জোর দিয়েছে, ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর শোনার মাধ্যমে নির্যাতন এবং গুমের ঘটনা তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।