
গাইবান্ধায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ, মাদক সম্রাট পুটুসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১১ নম্বর গিদারী ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা কবির হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাদক সম্রাট পুটুসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলাটি রুজু হয়। মামলার নম্বর ৪৮। আহত কবির হোসেনকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গিদারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিদারী ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে মাদকবিরোধী সেমিনার চলাকালে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ে থাকা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি, ব্যানার, ফেস্টুন, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলায় বাধা দিতে গেলে বিএনপি নেতা কবির হোসেনসহ অন্য নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কবির হোসেনের মাথা ও ডান হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এবং ডান পায়ের হাঁটুর নিচে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ছাড়া নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে লাল টেপে মোড়ানো ককটেল নিক্ষেপ করা হলে তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্র প্রদর্শন, হত্যার হুমকি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগও মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাক্ষীরা আহত কবির হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় থানায় এজাহার দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।
গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬ ও ৩২৪ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিয়াম শেখ গাইবান্ধা প্রতিনিধি 












