মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারেনি ৩ শিক্ষার্থীকে।

১১ শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারেনি ৩ শিক্ষার্থীকে।

পলাশবাড়ীর বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল, সাদুল্যাপুরের স্কুলেও একই চিত্র
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা পেলেও তিন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় বিদ্যালয়টিতে শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্নমাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছর বিদ্যালয়টির ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির তিন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। গত সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, তিনজনের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এর আগে বিদ্যালয়ের ফলাফল কখনো এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে। গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় কারাগারে থাকায় গণিত বিষয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। ফলে ওই বিদ্যালয়েও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কী কারণে বিদ্যালয় দুটির শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, তা জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এ ধরনের ফলাফল প্রত্যাশিত নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Farhan Shekh

১১ শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারেনি ৩ শিক্ষার্থীকে।

১১ শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারেনি ৩ শিক্ষার্থীকে।

Update Time : ০৯:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

১১ শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারেনি ৩ শিক্ষার্থীকে।

পলাশবাড়ীর বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল, সাদুল্যাপুরের স্কুলেও একই চিত্র
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা পেলেও তিন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় বিদ্যালয়টিতে শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্নমাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছর বিদ্যালয়টির ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির তিন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। গত সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, তিনজনের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এর আগে বিদ্যালয়ের ফলাফল কখনো এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে। গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় কারাগারে থাকায় গণিত বিষয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। ফলে ওই বিদ্যালয়েও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কী কারণে বিদ্যালয় দুটির শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, তা জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এ ধরনের ফলাফল প্রত্যাশিত নয়।