গাইবান্ধায় ভুয়া তান্ত্রিকদের প্রতারণা বন্ধে ডিবির কঠোর অভিযান জরুরি
গাইবান্ধা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে কথিত ভুয়া তান্ত্রিকদের আস্তানা।
রোগ-বালাই নিরাময়, পারিবারিক অশান্তি দূর, প্রেম-ভালোবাসায় সফলতা, বশীকরণ কিংবা নানা বিপদ থেকে মুক্তির অলৌকিক সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় ও সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠছে এসব কথিত তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে।
তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক ও নানা কথিত অলৌকিক চিকিৎসার নামে মানুষের বিশ্বাস ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে চলছে প্রতারণার কারবার। শুধু অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই নয়, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখানো, মানসিকভাবে হয়রানি এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার ফাঁদে আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষ করে অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষ যখন চিকিৎসা বা সমস্যার সমাধান খুঁজতে মরিয়া হয়ে পড়েন, তখন এসব প্রতারক নানা কৌশলে তাদের দুর্বলতার সুযোগ নেয়। ফলে একদিকে যেমন মানুষ আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কথিত ভুয়া তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে বিশেষ ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
কোথায় কোথায় এসব আস্তানা রয়েছে, কারা পরিচালনা করছে এবং তাদের সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র জড়িত কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। মানুষের অসহায়ত্ব ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণার সুযোগ কাউকেই দেওয়া উচিত নয়।
প্রয়োজনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে এসব কথিত তান্ত্রিকের আস্তানা চিহ্নিত ও তাদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত করা হলে প্রতারণার এই ভয়াবহ চিত্র অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















