গাইবান্ধায় মামলার নথি গায়েব, সাবেক কোর্ট জিআরও-আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা নির্দেশ
জাল জন্মসনদে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, অর্ডার শিট কাটাকাটির অভিযোগ
জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানো, আদালতের অর্ডার শিটে কাটাকাটি এবং মামলার নথি গায়েবের অভিযোগে গাইবান্ধার জেলা বারের আইনজীবী, তার মুহুরি ও গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার রাতে এ-সংক্রান্ত আদেশ গোবিন্দগঞ্জ আদালতে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআর হকিকুল ইসলাম। আদালত সূত্রে জানা যায়, তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ ওঠে জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে আদালতের নথি গায়েব এবং অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটির অভিযোগও তদন্তে আসে।বিষয়টি তদন্তের জন্য গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি গত ১৯ আগস্ট গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, তার মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী হয়ে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গোবিন্দগঞ্জ থানার কোর্ট পরিদর্শক জিয়ারু হকিকুল ইসলাম আদালতের নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি 









