শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

গাইবান্ধায় মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

গাইবান্ধায় একটি মহিলা হাফেজিয়া ও কওমি মাদরাসার পরিচালক ও পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে মাদরাসায় আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তার কাছ থেকে অভিযুক্তের পক্ষে সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণের অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

এজাহারে বলা হয়, প্রায় আট বছর আগে ওই কিশোরীকে অভিযুক্তের পরিচালিত মাদরাসার হেফজ আবাসিক শাখায় ভর্তি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত প্রায় ছয় মাস ধরে মাদরাসা পরিচালক বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি পরিবারকে জানালে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগীর বাবা-মা। তখন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ, গত ২৮ আগস্ট ভোরে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে ওই কিশোরীকে অভিযুক্তের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও মাদরাসার বাইরে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে ৩১ আগস্ট কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায় সে। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, মাদরাসায় আটকে রাখার সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই কিশোরীর কাছ থেকে অভিযুক্তের পক্ষে সাজানো বক্তব্য পড়িয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়।

এ কাজে আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা এজাহারে কয়েকজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে বলেছেন, তারা ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন।

পারিবারিকভাবে আলোচনা ও মেয়েকে বাড়িতে আনার পর থানায় আসায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

অভিযুক্তের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Farhan Shekh

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

গাইবান্ধায় মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

Update Time : ০২:১৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধায় মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

গাইবান্ধায় একটি মহিলা হাফেজিয়া ও কওমি মাদরাসার পরিচালক ও পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে মাদরাসায় আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তার কাছ থেকে অভিযুক্তের পক্ষে সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণের অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

এজাহারে বলা হয়, প্রায় আট বছর আগে ওই কিশোরীকে অভিযুক্তের পরিচালিত মাদরাসার হেফজ আবাসিক শাখায় ভর্তি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত প্রায় ছয় মাস ধরে মাদরাসা পরিচালক বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি পরিবারকে জানালে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগীর বাবা-মা। তখন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ, গত ২৮ আগস্ট ভোরে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে ওই কিশোরীকে অভিযুক্তের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও মাদরাসার বাইরে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে ৩১ আগস্ট কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায় সে। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, মাদরাসায় আটকে রাখার সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই কিশোরীর কাছ থেকে অভিযুক্তের পক্ষে সাজানো বক্তব্য পড়িয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়।

এ কাজে আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা এজাহারে কয়েকজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে বলেছেন, তারা ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন।

পারিবারিকভাবে আলোচনা ও মেয়েকে বাড়িতে আনার পর থানায় আসায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

অভিযুক্তের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করবে।