Category: জাতীয়

  • আজহারীর মাহফিলে খোয়া গেল অসংখ্য স্বর্ণালংকার-মোবাইল, থানায় জিডির হিড়িক

    আজহারীর মাহফিলে খোয়া গেল অসংখ্য স্বর্ণালংকার-মোবাইল, থানায় জিডির হিড়িক

    যশোরে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে অসংখ্য মানুষের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে।শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) রাতে শহরতলী পুলেটহাটস্থ আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনার পর থেকে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় ভুক্তভোগীরা জিডি করতে রীতিমতো লাইন ধরেছেন। থানা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত মাহফিলে মোবাইল ও স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার ঘটনায় ৩ শত জিডি হয়েছে। প্রতিনিয়ত যেভাবে জিডি করতে ভুক্তভোগীরা থানায় আসছেন তাতে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    যশোর শহরতলী পুলেরহাটস্থ আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের শেষদিন ছিল শুক্রবার। এ দিন রাতে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। তার আসার খবরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে সমগ্র মাহফিল এলাকায়। শুক্রবার সকালে থেকেই শীত উপেক্ষা করে মানুষ জমায়েত হয়। বিকেল থেকে মাহফিল স্থান ছাপিয়ে সড়ক, মহাসড়কেও শিশু, নারী, পুরুষের ঢল নামে। দুপুরের পর সড়কে যানজট দেখা দেয়। এজন্য অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছায়। সব সড়কের ঢেউ গিয়ে মিশে পুলেরহাটে। মাহফিল প্রাঙ্গণে পাঁচ থেকে সাত লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।

    Jashore pic-1

    রাত সাড়ে ১০ টার পর মাহফিল শেষ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পদদলিত হয়ে একাধিক ব্যক্তি মারা যাওয়ার খবর। আহতের সংখ্যাও অর্ধশতাধিক। এছাড়া মোবাইল, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার খবর।

    হাসপাতাল ও থানা সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেনারেল হাসপাতালে পদদলিত হয়ে ২১ জন ভর্তি হওয়ার খবর জানা গেছে। এর মধ্যে রাতেই ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর ১১ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়াতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত স্বর্ণালংকার ও মোবাইল খোয়া যাওয়ার ঘটনায় তিনশ’ জিডি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ডিউটি অফিসার শারমিন আক্তার।

    তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকে অসংখ্য মানুষ মোবাইল হারিয়ে যাওয়া বা চুরির ঘটনায় জিডি করতে আসে। তাৎক্ষণিক যারা মোবাইলের ডকুমেন্ট দেখাতে পেরেছে তারা জিডি করতে পেরেছে। আর শনিবার সকাল থেকে রীতিমতো ভিড় লেগেছে। কয়েক হাজার জিডি হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

    মায়ের দেড় ভরি ওজনের একটি গলার হার খোয়া যাওয়ার পর শনিবার দুপুরে জিডি করতে এসেছেন সদরের রুপদিয়া থেকে ইব্রাহিম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মা মহিলা প্যান্ডেলে বসে আজহারী হুজুরের ওয়াজ শুনছিলেন। এক পর্যায়ে গলায় হাত দিয়ে দেখেন তার গলায় হার নেই। তাই থানায় জিডি করতে এসেছি।’

    বউয়ের গলার চেইন হারিয়ে যাওয়ার পর থানায় জিডি করতে আসেন শহরতলী নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হয়রত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এভাবে ওয়াজ মাহফিলে চুরি হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক এবং অপরাধমূলক কাজ। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে গতকাল। চোররাও এ ধরনের অনুষ্ঠানে সুযোগটা কাজে লাগায়। কর্তৃপক্ষের আরও সর্তক ও ব্যবস্থাপনা ভালো করা উচিত ছিল। আর আমাদেরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল, ব্যাপক সমাগম স্থানে দামি দামি জিনিসপত্র পরিধান ও নিয়ে যাওয়া উচিত হয়নি।’

    jd-1.width-750

    শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, ‘যশোরের ইতিহাসে এমন বড় মাহফিল হয়নি। ওয়াজ মাহফিলে গেছিলাম ইমান আমল ঠিক করতে। আর চোরেরা তাদের ব্যবসা খুঁজে নিলো। হাজার হাজার মানুষের মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছি মাহফিলের মাঠেই। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসেছে, তাই জিডি করতে কাগজপত্র দেখাতে না পারায় জিডি করতে পারছে না। যারা চুরির মতো এ ধরনের কাজ করছে মাহফিলে; তারা মাহফিলের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। তাদের বিচার হওয়া উচিত।’

    যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘তিনদিন ব্যাপী বৃহৎ মাহফিল হয়েছে যশোরে। পাঁচ থেকে সাত লক্ষ মানুষ সমাগম হয়েছে। এর ভিতরে অসংখ্য মানুষের মোবাইল, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। অনেকেই জিডি করছেন। কয়েকটি চুরির অভিযোগও পেয়েছি। পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘মাহফিলে আহত বা মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মাহফিলে পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। ফলে মৃত্যু নিয়ে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।’

    প্রসঙ্গত, গত পহেলা জানুয়ারি বুধবার থেকে তিনদিন ব্যাপী এই মাহফিল শুরু হয়। মাহফিলের প্রথম দিন বুধবার আলোচনা করেন আল্লামা মামুনুল হক ও আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিন আলোচনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী ও মুফতি আমির হাজমা। শেষদিন শুক্রবার আলোচনা করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ ও ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

  • ভারতে প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন ৫০ বিচারক

    ভারতে প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন ৫০ বিচারক

    ভারতের ভূপালে অবস্থিত ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি এবং স্টেট জুডিসিয়াল একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য অধস্তন আদালতের ৫০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের প্রেক্ষিতে এই অনুমতি দেয় আইন মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের জন্য সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এসব বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা আগামী ১০ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

    আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের দেয়া এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের প্রেক্ষিতে আগামী ১০ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি ভূপাল এবং একটি স্টেট জুডিসিয়াল একাডেমিতে অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৫০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাককে অনুমতি দেওয়া হলো।

    প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় ভারত সরকার বহন করবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (প্রশিক্ষণ) ড. আবুল হাসানাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা বলা হয়েছে।

  • শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য ফাঁস করলেন সোহেল তাজ

    শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য ফাঁস করলেন সোহেল তাজ

    রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম কর্মীদের সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটে। সে ঘটনায় তৎকালীন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দোষারোপ করা হয়। তবে সেটি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।‘হাঁটে হাড়ি ভাঙা’ প্রথম পর্ব শিরোনামে দেওয়া পোস্টে সোহেল তাজ লিখেছেন, ‘আপনারা যারা আশরাফ ভাইকে শাপলা চত্বর নিয়ে দোষারোপ করছেন তা সঠিক না, তিনি হয়তো কিছু কথা বলে থাকতে পারেন কিন্তু সব সিদ্ধান্ত আসত একেবারে উপর থেকে।’ এ সময় পোস্টে তিনি ‘সিরিজ চলবে, এখন আমার পালা’ বলেও ইঙ্গিত দেন।২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর ব্যস্ততম ও অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে কর্মসূচি দিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ও নারী নীতির বিরোধিতা করাসহ ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

    দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়েছিল সংগঠনটির ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। রাতে শাপলা চত্বর ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক ভীতিকর পরিবেশ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি অভিযান চালিয়ে খালি করে শাপলা চত্বর।

    গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ওই সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। হেফাজতের কর্মসূচি নিয়ে এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না, রাতের মধ্যেই আপনারা ঘরে ফিরে যাবেন এবং ভবিষ্যতে আপনাদের আর ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।’

    অভিযানে শাপলা চত্বর খালি করার পর সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম বিড়ালের মতো লেজ গুটিয়ে চলে গেছে।’

  • নারীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে পুরুষ ভোটার

    নারীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে পুরুষ ভোটার

    নতুন করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। তবে এবারের হালনাগাদে দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষ ভোটার প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এবার নারী ভোটারের তুলনায় পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ জন বেশি।বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    নির্বাচন কমিশন জানায়, গত বছরের ২ মার্চ মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন ৬ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ জন এবং নারী ভোটার ছিলেন ৫ কোটি ৯৭ লাখ ০৪ হাজার ৬৪১ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার ছিল ৯৩২ জন।

    ২০২৪ সালের হালনাগাদে নতুন ভোটার হয়েছেন মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫১৬ জন, নারী ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৪ জন এবং হিজড়া ৬২ জন।

    এর ফলে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০৩ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪১৫ জন ও হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৯৯৪ জন। মোট ভোটার বৃদ্ধির হার ১.৫০ শতাংশ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দাবি আপত্তি-নিষ্পত্তি শেষে আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে কারও কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে তা জানাতে পারবেন। দাবি আপত্তি জানানোর শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি।

    ইসি জানায়, আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

  • হঠাৎ হাসনাত-সারজিস-আসিফের ফেসবুক আইডির কি হলো

    হঠাৎ হাসনাত-সারজিস-আসিফের ফেসবুক আইডির কি হলো

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ বেশ কয়েকজনের ফেসবুক আইডি এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    বুধবার বিকাল থেকে তাদের আইডিগুলো সার্চ করে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়েদ আবদুল্লাহসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও কয়েকজন।

    বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে খুঁজেও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিগুলো পাওয়া যায়নি।

    অনেকেই বলছিলেন, এই আইডিগুলো ডিজেবল হয়ে গেছে।

    তবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের আরও একটি ফেসবুক ভেরিফায়েড আইডি রয়েছে। যেটি এখনো সচল পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে কোনো স্ট্যাটাস বা বার্তা দিতে দেখা যায়নি সরকারের এই উপদেষ্টাকে।

    তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক বলেন, ‘তাদের কারও আইডি ডিজেবল বা নষ্ট হয়নি। আইডিগুলোতে কিছু সমস্যা হচ্ছিল, তাই তারা আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে রেখেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যারা এ ধরনের চেষ্টা করছে আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। তাদের কয়েকজন বাংলাদেশে থেকেই এ কাজ করছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি।

    এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কয়েকটি আইডিতে সাইবার হামলা হয়েছে।  তাই সতর্কতার জন্য আমি ও হাসনাতসহ কয়েকজন ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে রাখা হয়েছে। ’

    সাইয়েদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘গতকাল বিকালে হঠাৎ একটি মেসেজ পেলাম যে আমার আইডিটি ডিজেবল করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে আইডিতে গিয়ে সিকিউরিটি নিশ্চিত করে সেটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। কিন্তু পরবর্তীতে দেখলাম আইডিটা সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে।’

    আওয়ামী লীগের সাইবার টিম এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আইডি সাসপেন্ড হওয়ার পর তাদের বিভিন্ন পেজ থেকে আমরা যারা আন্দোলনে ছিলাম তাদের টার্গেট করে এটা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

  • পুলিশের ৬৫ কর্মকর্তাকে বদলি

    পুলিশের ৬৫ কর্মকর্তাকে বদলি

    বাংলাদেশ পুলিশের ৬৫ কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (০১ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    একটি প্রজ্ঞাপনে ১৭ জনকে বদলি করা হয়েছে। যেখানে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, অতিরিক্ত কমিশনার, উপ-কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার ও পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছে।
    অপর আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ৪৮ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ১৭ জন সুপারনিউমারারিতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত। এ ছাড়া মিশন থেকে ফেরত আসাদের একটা অংশ এই আদেশের মাধ্যমে পদায়ন করা হয়েছে।

    এদিকে গতকাল মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক অফিস আদেশে তাদের বদলি করা হয়।
    বদলির আদেশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- ডিএমপি ট্রাফিকের মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. হাফিজুর রহমানকে ডিএমপি সদর দফতরে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরঅ্যান্ডডি-২) বিভাগ, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের এয়ারপোর্ট জোনের সাখাওয়াত হোসেন সেন্টুকে ডিএমপির সদর দফতরে সিটি অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিক বিভাগের (ক্রাইম সিন অ্যান্ড সাপোর্ট), ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের এহসানুল কামরান তানভীরকে মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের এসি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া ডিএমপি সদর দফতরের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ আক্কাস আলীকে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে, সোহেল রানাকে ট্রাফিকের উত্তরা বিভাগে, মো. ওমর ফারুককে গুলশান বিভাগের এসি প্যাট্রল (ক্যান্টনমেন্ট) এবং একই দায়িত্ব পালন করা মো. দেলোয়ার হোসেনকে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
  • হোটেল, রেস্তোরাঁ, পোশাকসহ ৪৩ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ছে

    হোটেল, রেস্তোরাঁ, পোশাকসহ ৪৩ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ছে

    রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে খাবারের বিলের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিতে হবে। এত দিন শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বা এসি রেস্তোরাঁয় খাবারের বিলের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়া হতো। সেটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    এ জন্য মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। এসব সংশোধনীসহ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধনী) অধ্যাদেশ–২০২৫–এর খসড়া সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে গতকাল বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ–সংক্রান্ত সংশোধিত খসড়া অধ্যাদেশের অনুমোদনের বিষয়টি বৈঠক শেষে জানানো হলেও ভ্যাটের বিষয়ে কী কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর সূত্রে কিছু পরিবর্তনের বিষয়ে জানা গেছে।

    সরকারের অর্থ দরকার। তাই বিভিন্ন পণ্য–সেবার ওপর ভ্যাট ও শুল্ক বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তের ওপর খরচের চাপ কিছুটা বাড়বে, এটা সত্য।এনবিআর–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেস্তোরাঁর পাশাপাশি পোশাক কেনার ক্ষেত্রেও ভ্যাটের হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তৈরি পোশাকের আউটলেটের বিলের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। এটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেটি হলে পোশাক কেনার খরচও বাড়বে মানুষের। এ ছাড়া মিষ্টি কিনতে গেলেও খরচ বাড়তে পারে ভোক্তার। কারণ, মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট হার সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    এ ছাড়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে নন-এসি হোটেল সেবার ভ্যাট হারও বাড়তে পারে। বর্তমানে নন–এসি হোটেল সেবার ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। সেটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এনবিআর–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মাঝপথে এসে হঠাৎই ভ্যাট, সম্পূরক শুল্কসহ বিভিন্ন ধরনের কর বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৪৩ ধরনের পণ্য ও সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হবে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
    এ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়াটি উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদনও দিয়েছে। শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগ থেকে ভ্যাট বাড়ানোর আদেশ জারি করা হবে বলে সূত্রটি জানায়।

    রেস্তোরাঁ, পোশাক, হোটেল ছাড়াও অন্য যেসব খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসতে যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো উৎপাদন পর্যায়ে বিস্কুট, আচার, সিআর কয়েল, ম্যাট্রেস, ট্রান্সফরমার, টিস্যু পেপার ইত্যাদি। এ ছাড়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্ড বানানোর সময়ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এনবিআর ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অব্যাহতির সংস্কৃতি পরিহার করে ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি; হ্রাসকৃত হার ক্রমান্বয়ে সংকোচন করে আদর্শ হারে উন্নীত করা এবং কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যে ভ্যাটের হার যৌক্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি ঋণের শর্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ করার শর্ত দিয়েছে। বাংলাদেশকে দেওয়া ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারে চলমান ঋণ কর্মসূচির চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ঘুরে গেছে আইএমএফের একটি মিশন। চলমান এই ঋণ কর্মসূচির আকার আরও ৭৫ কোটি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এই অর্থ দিতেও সম্মত হয়েছে আইএমএফ। তবে এ জন্য কর আদায় ও নীতি গ্রহণকারী সংস্থাকে আলাদা করাসহ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর মতো কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছে আইএমএফ। মূলত আইএমএফের শর্ত পূরণেই ভ্যাট বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা।জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অর্থনীতির সামগ্রিক বাস্তবতায় সরকারের ওপর দায়দেনার চাপ বাড়ছে। সরকারের অর্থ দরকার। তাই বিভিন্ন পণ্য–সেবার ওপর ভ্যাট ও শুল্ক বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তের ওপর খরচের চাপ কিছুটা বাড়বে, এটা সত্য। আবার আমাদের রাজস্ব ও জিডিপি অনুপাত খুবই কম। সেটি বাড়ানোও দরকার। এ জন্য প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে মধ্যমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে সাধারণ মানুষ যাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’
    ছোটরাও আসতে পারে টার্নওভার করে

    ৪৩ ধরনের পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা হলেই টার্নওভার কর দিতে হতে পারে। বর্তমানে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর দিতে হয়। নতুন প্রস্তাব অনুসারে, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা পেরোলে পণ্য ও সেবা বেচাকেনায় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসতে পারে।

    এ ছাড়া মদের বিলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এনবিআর–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মদের পাশাপাশি আমদানি, উৎপাদন ও সেবা পর্যায়ে বেশ কিছু পণ্য ও সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। যেমন আমদানি পর্যায়ে ফলের রসে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ; তামাকে ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ; সুপারিতে ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের কথা বলায় (টকটাইম) সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হতে পারে বলেও এনবিআর সূত্র জানায়।ভ্রমণে আবগারি শুল্ক বাড়তে পারে

    আকাশপথে ভ্রমণে খরচও বেড়ে যেতে পারে। কারণ, আবগারি শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ পথে বিমানযাত্রায় আবগারি শুল্কের পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হতে পারে। আর বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশ ভ্রমণে আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং সার্কভুক্ত দেশের বাইরে (এশিয়ার মধ্যে) ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা, ইউরোপ ও আমেরিকা ভ্রমণে আবগারি শুল্ক ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা করা হতে পারে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিমানের টিকিট কাটার সময় বাড়তি এই শুল্ক আদায় করা হবে।

    এনবিআরের বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় সংসদ ছাড়া কর বাড়ানোর সুযোগ নেই বললেই চলে। তাই রাষ্ট্রপতির আদেশে অধ্যাদেশ দিয়ে কর বাড়াতে হয়। নতুন ভ্যাট হার কার্যকরে তাই রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমেই সেটি করা হতে পারে। আগামী সপ্তাহে এই অধ্যাদেশ জারি হতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

  • কবরস্থানে চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি নেতা আমিন গ্রেপ্তার

    কবরস্থানে চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি নেতা আমিন গ্রেপ্তার

    রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে চাঁদাবাজির মামলায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর নিউ পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে লালবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
    লালবাগ থানার ওসি ক্যশৈনু জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর আজিমপুর কবরস্থানে চাঁদাবাজির সময় সেনাবাহিনী পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্তের ভিত্তিতে আমিনুল ইসলাম আমিনের নাম উঠে আসে। পর সেনাবাহিনীর তৎপরতায় আমিনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
    স্থানীয় বাসিন্দারা তার গ্রেপ্তারের খবর শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। চাঁদাবাজি বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
  • নতুন বছরে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

    নতুন বছরে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

    নতুন বছরে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই রমজানের চাহিদা মেটাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে ভোজ্য তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।  

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় ২৮ কোটি লিটার ভোজ্য তেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে এক কোটি ৯০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ক্রয়ে ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুসরণে গত ২৫ নভেম্বর স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে সর্বনিম্ন প্রস্তাবকারী সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড প্রতি লিটার ১৭১ দশমিক ৯৫ টাকা দরে এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি অবশিষ্ট এক কোটি ১০ লাখ লিটার সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করে।
    দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সুপারিশ করেছে, প্রস্তাবিত এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল দুই লিটার পেট বোতলে, পরিবহন খরচসহ, মোট ১৮৯ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা হবে। গত ২ ডিসেম্বর একই প্রক্রিয়ায় ১৭২.২৫ টাকা দরে তেল কেনা হয়।

    রমজানের বাড়তি চাহিদা এবং কম আয়ের মানুষের জন্য প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের চাহিদা মেটাতে দুই কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।সরকারের এ উদ্যোগ রমজানে ভোজ্য তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • জানুয়ারি জুড়ে থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, বাড়বে শীতের তীব্রতা

    জানুয়ারি জুড়ে থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, বাড়বে শীতের তীব্রতা

    গত বছরের তুলনায় এবারের জানুয়ারিতে শীত বেশি থাকার সম্ভাবনার রয়েছে। নতুন বছরের জানুয়ারি মাসেই কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা বেশি থাকবে।

    মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে আহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে একটি থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং একটি থেকে দুইটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে। আজ থেকে তাপমাত্রা কমে আসলেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, সিলেট বিভাগে ঠাণ্ডার অনুভূতি বাড়বে বুধবার থেকে। ধীরে ধীরে মধ্যাঞ্চল হয়ে দেশের পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত এর বিস্তার হতে পারে।দেশের পশ্চিমাঞ্চলেও বিচ্ছিন্নভাবে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে জানিয়ে এই আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এটা শুক্রবার পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী কয়েকদিন কুয়াশা আরো বাড়বে। উত্তরের হিমেল হাওয়ার প্রভাবও বাড়তে থাকবে। পুরো মাস জুড়েই বেশ শীতের অনুভূতি থাকবে।উল্লেখ্য, বড় এলাকাজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। এছাড়া ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেটিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।