শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ​

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৮ Time View

সাদুল্লাপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন


গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার
নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামে বসতভিটার সীমানার বিরোধের জের ধরে নিরীহ সহজ সরল মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানীমুলক মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় প্রতিবাদী জনতার ব্যানারে উপজেলার খামার দশলিয়া আলীম মাদ্রাসা সংলগ্ন নলডাঙ্গা কাচারী বাজার- হাতিয়া চৌরাস্তা পাকা সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।এতে ওই এলাকার নারী পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসংখ্য লোকজন অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল শেখ,বাবু, শহিদু ইসলাম ও সাগর প্রমুখ।

বক্তরা বলেন,প্রতিপক্ষ রেশমার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও কোন রকম চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।শুধুমাত্র ভুক্তভোগিদের হয়রানী ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে সাজানো এ মামলাটি করা হয়েছে।মামলাটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অনতিবিলস্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান বক্তরা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগিরা জানান,ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলী গংয়ের সঙ্গে প্রতিবেশি রেশমা বেগম ও তার স্বামীর দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।এরইমধ্যে প্রতিপক্ষ রেশমা বেগম বাড়ির সীমানা ঘেঁষে পাকাঘর নির্মান করেন।এসময় মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলেসহ পরিবারের অন্যান্যেরা রেশমা বেগমকে সীমানা ঘেঁষে ঘর নির্মানে বাধা দেন। এতে রেশমা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে সহজ সরল নিরীহ প্রকৃতির মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলেসহ ৫ জনকে আসামী করে গত ২৭ জুলাই সাাদুল্লাপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন।

অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগি মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে আব্দুল মজিদ ও আব্দুল রউফ অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত না করে বাদী রেশমার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে পক্ষপাতিত্ব অবলম্বন করে গোপনে এমামলাটি রুজু করে।

তারা আরো বলেন,মামলা রুজুর দুদিন পরে পুলিশ আমার বাবা মোহাম্মদ আলীকে গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজোতে পাঠায়। তিনি ১৭ দিন মিথ্যা এ মামলায় হাজতবাস করে জামিনে মুক্তি পান। এরপর আরেক আসামী শহিদুল ইসলাম আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নাকোচ করে তাকে জেলহাজতে পাঠায়।তিনিও ১৪ দিন হাজতবাসের পর জামিনে জেলহাজত থেকে বের হন।মামলার বিষয়ে বাদি রেশমার সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,মানববন্ধনে যা বলা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিক্তিহীন। সাদুল্লাপুর থানার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এসআই আবু তালেব বলেন,মামলাটির তদন্ত চলমান আছে। সেহেতু মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত সাপেক্ষে স্বাক্ষ্য প্রমানে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে পরবর্তীতে তা আদালতে উণ্থাপন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Farhan Shekh

জনপ্রিয়

শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা: অপরিকল্পিত ঘের ও পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টিই মূল কারণ

সাদুল্লাপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ​

Update Time : ০৪:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাদুল্লাপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন


গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার
নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামে বসতভিটার সীমানার বিরোধের জের ধরে নিরীহ সহজ সরল মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানীমুলক মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় প্রতিবাদী জনতার ব্যানারে উপজেলার খামার দশলিয়া আলীম মাদ্রাসা সংলগ্ন নলডাঙ্গা কাচারী বাজার- হাতিয়া চৌরাস্তা পাকা সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।এতে ওই এলাকার নারী পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসংখ্য লোকজন অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল শেখ,বাবু, শহিদু ইসলাম ও সাগর প্রমুখ।

বক্তরা বলেন,প্রতিপক্ষ রেশমার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও কোন রকম চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।শুধুমাত্র ভুক্তভোগিদের হয়রানী ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে সাজানো এ মামলাটি করা হয়েছে।মামলাটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অনতিবিলস্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান বক্তরা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগিরা জানান,ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলী গংয়ের সঙ্গে প্রতিবেশি রেশমা বেগম ও তার স্বামীর দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।এরইমধ্যে প্রতিপক্ষ রেশমা বেগম বাড়ির সীমানা ঘেঁষে পাকাঘর নির্মান করেন।এসময় মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলেসহ পরিবারের অন্যান্যেরা রেশমা বেগমকে সীমানা ঘেঁষে ঘর নির্মানে বাধা দেন। এতে রেশমা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে সহজ সরল নিরীহ প্রকৃতির মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলেসহ ৫ জনকে আসামী করে গত ২৭ জুলাই সাাদুল্লাপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন।

অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগি মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে আব্দুল মজিদ ও আব্দুল রউফ অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত না করে বাদী রেশমার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে পক্ষপাতিত্ব অবলম্বন করে গোপনে এমামলাটি রুজু করে।

তারা আরো বলেন,মামলা রুজুর দুদিন পরে পুলিশ আমার বাবা মোহাম্মদ আলীকে গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজোতে পাঠায়। তিনি ১৭ দিন মিথ্যা এ মামলায় হাজতবাস করে জামিনে মুক্তি পান। এরপর আরেক আসামী শহিদুল ইসলাম আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নাকোচ করে তাকে জেলহাজতে পাঠায়।তিনিও ১৪ দিন হাজতবাসের পর জামিনে জেলহাজত থেকে বের হন।মামলার বিষয়ে বাদি রেশমার সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,মানববন্ধনে যা বলা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিক্তিহীন। সাদুল্লাপুর থানার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এসআই আবু তালেব বলেন,মামলাটির তদন্ত চলমান আছে। সেহেতু মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত সাপেক্ষে স্বাক্ষ্য প্রমানে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে পরবর্তীতে তা আদালতে উণ্থাপন করা হবে।